জনপ্রশাসনে বড় রদবদল
| বাংলাদেশ সচিবালয় | ফাইল ছবি |
জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নতুন সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন) তিন সচিবকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তিতে থাকা ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা তিন সচিব হলেন— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
চুক্তি বাতিল হওয়া ৯ সচিব হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন ও কাইয়ুম আরা বেগম; বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হলো। এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে প্রশাসনের শীর্ষ পদের দুই কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এরপর চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রশাসনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ ১২টি সচিব পদে নতুন মুখ আসতে পারে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও রদবদল হতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ পছন্দের জায়গায় পদ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রথম ছয় মাসেই সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ের ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের একজন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের দুজন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। পাশাপাশি সচিবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে জনপ্রশাসনে পরিবর্তন আনবে—এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার অতীতের মতো দলীয়করণ করবে না এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেবে না।
ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেধাসম্পন্ন বাংলাদেশ বা ‘মেরিটোক্রেসি’ গড়ে তুলতে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। কোনো কর্মকর্তা যেন অন্যায়ভাবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সরকার তা নিশ্চিত করবে।
Comments
Comments