[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসিকিউটরের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে বিদায় নেওয়ার দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, চিফ প্রসিকিউটরের পদটিকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।

সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামের একটি পোস্টে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। ওই মন্তব্যে তিনি তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন।

সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ‘রাজসাক্ষী’ করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুলতান মাহমুদ। এ ছাড়া রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবর্ষণের নির্দেশদাতা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করার অভিযোগও করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ রাতে মুঠোফোনে জানান, সকালে একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লিখেছেন এবং তাঁর দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। তবে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদের পোস্টে দুটি মন্তব্য করার পাশাপাশি দুটি প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন।

একটি মন্তব্যে সুলতান মাহমুদ লিখেছেন, গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানো মামলার আসামি এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী সন্ধ্যার দিকে একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে ঢোকেন। বিষয়টি দেখার পর তিনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাঁকে জানান। কিন্তু তাজুল ইসলাম কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁদের বকাঝকা করেন।

সুলতান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, তামীম তখন সবার সামনেই এসআই আবজালের স্ত্রীর তাঁর কক্ষে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই আবজালকে রাজসাক্ষী করা হয় এবং বিচারে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে গত ৫ ফেব্রুয়ারি। রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ায় আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তাঁর মন্তব্যে আরও লেখেন, ‘চানখাঁরপুলের মামলায় এসআই আশরাফুল গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছেন—এমন ভিডিও থাকার পরেও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে। সেই ভিডিও আমার কাছে আছে।’

সেখানে সুলতান মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, ‘রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এসি ইমরানকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো? কয়েকজন সাক্ষী আদালতে তাঁর নাম বলার পরও কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? এ ছাড়া সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কী কারণে রাজসাক্ষী করা হলো?’

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ১৭ নভেম্বরের সেই রায়ে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি মন্তব্যে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘শুধু আইজিপি মামুন নন, আশুলিয়ার মরদেহ পোড়ানো মামলায় টাকার বিনিময়ে আবজালকেও রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিন-চারজনের একটি চক্র শুরু থেকেই এসবের সঙ্গে জড়িত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিফ প্রসিকিউটরের পদটিকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে এই তাজুল সিন্ডিকেট।

চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ বাতিলের পর দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাজুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তখন তাজুল ইসলামের পাশেই ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কে কী বলছে, তা আমরা আমলে নিচ্ছি না। এসব বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের নির্দিষ্ট অভিযোগ—এসআই আবজালুলের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে তামীমের কক্ষে যাওয়ার তথ্য তাজুল ইসলামকে জানানো হয়েছিল—এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘না, বিষয়টি আমার জানা নেই।’

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্যক্তিগত হিংসা থেকে কেউ যদি এমন কথা বলেন, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং তা আদালতের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। দেশের মানুষ ও সংবাদমাধ্যম এর সাক্ষী। দু-একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথা আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।’

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার নিয়োগ পাওয়ার পর দুপুরে তিনি ট্রাইব্যুনালে আসেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর ও অন্য একজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আমার প্রথম দিন, আমি এখানে মেহমানের মতো। এই বিষয়গুলো নিয়ে আজ কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনি যে অভিযোগের কথা বললেন, তেমন কিছু যদি ঘটে থাকে তবে তা নিশ্চয়ই আমার কাছে আসবে। তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা যাবে। আজ এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন না করাই ভালো।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন