[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চকরিয়া রেলস্টেশনে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে, সন্ধ্যা নামলেই ভয়

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে চুরি ও ছিনতাই বেড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই যাত্রীদের ভয়ে থাকতে হচ্ছে। নগদ টাকা, মুঠোফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস হারানোর পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের হামলায় আহতও হচ্ছেন যাত্রীরা।

রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, চকরিয়া স্টেশনে গত দুই মাসে ২৩–২৫টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। এছাড়া চকরিয়ায় ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।

রেল কর্মকর্তারা জানান, চকরিয়া উপজেলা পার্শ্ববর্তী দুটি জেলায় ট্রেনে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। চকরিয়ার পূর্বে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, থানচি; পশ্চিমে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কিছু অংশ। এসব এলাকার মানুষ চকরিয়ার তিনটি রেলস্টেশন ব্যবহার করে ট্রেনে যাতায়াত করেন।

যাত্রী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, চকরিয়ার তিনটি রেলস্টেশন এমন জায়গায়, যেখানে রাতের বেলা তো দূরের কথা, দিনেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় চুরি ও ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

 
রেলস্টেশন চালু হওয়ার পর অন্তত অর্ধশতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোগান্তির ভয়ে দূরবর্তী এলাকার যাত্রীরা থানায় অভিযোগ করতে যায় না।
—আজিজুল হাকিম, প্যানেল চেয়ারম্যান, সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ।

চকরিয়ার মূল শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে চিরিংগা-বদরখালী সড়কের সাহারবিল পরিষদ এলাকায় চকরিয়া রেলস্টেশন অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে একটি ওভারপাস আছে। নিচ দিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে আর ওপর দিয়ে ট্রেন চলে। ওভারপাসের দুই পাশ দিয়ে রেলস্টেশনে যাওয়ার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কে কোনো সড়কবাতি নেই। তবে রেলস্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মে যথেষ্ট আলো ও সড়কবাতি আছে।

অন্তত ৯টি ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, সবই এই অ্যাপ্রোচ সড়কে ঘটেছে। কখনো হেঁটে যাওয়ার সময় যাত্রীর গলায় ছুরি ধরে সব কিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কখনো ইজিবাইক (টমটম) আটকে অস্ত্রের মুখে টাকা, মুঠোফোন, ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে যাওয়ার ট্রেনের উদ্দেশে চকরিয়া রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রাশেদ (২৫)। তার বাড়ি চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিণ বাটাখালী গ্রামে। অ্যাপ্রোচ সড়কে পৌঁছামাত্র তিন দুর্বৃত্ত গলায় ছুরি ধরে তার মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে বোনের বাসায় যেতে রেলস্টেশনে যাচ্ছিলাম। স্টেশনের একদম কাছে অ্যাপ্রোচ সড়কে আমাকে বহনকারী ইজিবাইক আটকে ছুরি ধরে সাড়ে তিন হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো ফল পাইনি।’

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম বলেন, ‘রেলস্টেশন চালু হওয়ার পর অন্তত অর্ধশতাধিক ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ভয়ে দূরবর্তী এলাকার মানুষ থানায় অভিযোগ করতে যায় না।’

চকরিয়া অঞ্চলের তিনটি স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের কোনো ফাঁড়ি নেই। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) কোনো কার্যক্রম চালাচ্ছে না। এ কারণে ছিনতাইকারীরা নির্বিঘ্নে একের পর এক অপরাধ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

চকরিয়া রেলস্টেশনের ইনচার্জ মো. ফরহাদ বিন জাফর চৌধুরী বলেন, ‘গত দুই মাসে ২৫টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশের কাছে কমপ্লেইন খুব কমই হয়। তবে শিকাররা আমার কাছে আসে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনটি চক্রের নাম ঘুরেফিরে আসে। তাদের বিষয়ে থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘থানা পুলিশ রেলস্টেশনের যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে রেল পুলিশ না থাকায় ঝামেলা চলছেই। কারণ চকরিয়া থানার এলাকা ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তিনটি স্টেশনের পুরো দায়িত্ব পালন থানা পুলিশের পক্ষে খুব কষ্টসাধ্য।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন