প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুললেন মাহমুদুর রহমান মান্না
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন, বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের কর্মী-সমর্থকরা কেটলির নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান এসব অভিযোগ করেন। তবে বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বগুড়া-২ আসন থেকে তার নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে শুরু থেকেই কিছু ইস্যু তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। আমার একটি ব্যবসা ছিল, সেই ব্যবসার জন্য লোন নিয়েছিলাম। ব্যবসা করতে পারিনি। ১০–১৫ বছর ধরে চলমান স্বৈরাচারের কারণে ঠিকমতো এলাকায় যেতে পারিনি। দুই বছর জেলে ছিলাম। ব্যবসা যাঁর হাতে ছিল, তিনি রাজনীতি বা অযোগ্যতার কারণে তা ঠিকমতো চালাতে পারেননি। এতে বড় ঋণ জমে গেছে। জুলাই আন্দোলনের পর আমি ব্যবসায়ী না হয়েও তা হাতে নেওয়ার পর এক বছরে দুই কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যখন রি–শিডিউলের বৈঠক চলছিল, তখন স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের চিঠি আসে, বলা হয় ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ না করলে মামলা হবে। তখন বুঝেছিলাম এটা একটা চক্রান্ত। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় এবং ঋণ রি–শিডিউল করা হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে চিঠি না আসায় আদালতে যেতে হয়, এতে সময় লেগে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল। তারা বগুড়া-২ আসন থেকে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আদালতের সময় ব্যবধানের সুযোগে যিনি আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে চেয়েছেন, তিনি ডামি প্রার্থী দিয়েছেন। বলেছিলেন, যথাসময়ে ব্যবস্থা নেবেন। মাসখানেক পর পরশু এলাকায় আসার পর দেখলাম, এলাকায় প্রচারণা চলছে। ক্ষমতায় যাঁরা যাচ্ছেন, তাদের পক্ষে কাজ করা মানুষের বিরুদ্ধে “থ্রেট” দেওয়া হচ্ছে। ভোটার, কৃষক, গৃহবধূ এবং ইউনিয়ন নেতাদের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হচ্ছে।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠন আছে। সংগঠনের নারী সদস্যরা সোমবার কেটলির প্রচার চালাতে আসার সময় শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ও দেউলিতে পথ আটকে বাধা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হ্যান্ডমাইকে কেটলির পক্ষে প্রচারে নামলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছে। থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।’
নাগরিক ঐক্যের এই নেতা আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তুমি এটা–ওইটাতে মিছিল করলে, ১২ তারিখের পর ব্যবসা করতে পারবে না। দিন দিন এই পরিস্থিতি আরও বাড়ছে। আমরা সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করব। আমি চাই পরিস্থিতি পরিবর্তন হোক, যাতে সুষ্ঠু ভোট হয়। সেই ভোটে যে জিতবে, মানুষ মনে করছে, অনেক কিছুই হয়তো ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে।’
নাগরিক ঐক্য এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এখনো অভিযোগ করা হয়নি, প্রয়োজনে করব।’ জামায়াতের সঙ্গে জোটের ‘গুজব’ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি এলাকায় থাকেন না। প্রচার শুরুর চার দিন পর মাঠে এসেছেন। ভোটারের সাড়া না পেয়ে প্রচারণার মাঠে সুবিধা করতে না পেরে তিনি রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ধানের শীষের কেউ কেটলি প্রতীকের সমর্থকদের ভয় দেখিয়েছে বা প্রচারে বাধা দিয়েছে, এমন প্রমাণ থাকলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে ছোট করতে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।’

Comments
Comments