শুধু প্রথম আলো-ডেইলি স্টার নয়, আজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ শুধু প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার নয়, আজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। তাই গণতন্ত্রী সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।
তিনি এই কথা বলেন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবাদ সভায়। সভা আয়োজন করে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ এবং মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব)। এই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে তারা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধনও করে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ হলেও বিশ্বাস ও হৃদয়ের টানে সভায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি? আমার বয়স ৭৮ বছর। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখব বলে। আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, এ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনো দিন দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত পরিষ্কার, এখানে কোনো কথা বলার কিছু নেই। আজ ডেইলি স্টার নয়, প্রথম আলো নয়, আজ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। আমার স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার, কথা বলার অধিকার সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই যুদ্ধের ওপরও আঘাত এসেছে, কারণ জুলাই যুদ্ধ ছিল দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। আজ সেই জায়গায় আঘাত এসেছে। তাই কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নয়, সব গণতন্ত্রীকামী মানুষের এক হওয়ার সময় এসেছে। যারা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে চায়, যারা সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতন্ত্রী বাংলাদেশ দেখতে চায়, আজ তাদের সচেতন থাকার পাশাপাশি রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আমি আহ্বান জানাব—শুধু একাত্মতা নয়, সর্বশক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে রুখুন।’
গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ঘটে, যার ফলে কার্যালয় ভস্মীভূত হয়। একই রাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়েও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। সংহতি জানাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গেলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের জন্য ‘কালো দিন’ আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন অনেকেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলাটি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।

Comments
Comments