[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রেলস্টেশনে জন্মের পর হাসপাতালে রেখে নিখোঁজ মা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশনে জন্ম নেওয়া নবজাতককে তুলে দেওয়া হয় এক দম্পতির কোলে।  বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে  | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

শীতের গভীর রাত। কুয়াশায় ঢাকা রেলস্টেশনের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয় এক নবজাতকের কান্না। প্ল্যাটফর্মের এক পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোলে জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যাশিশুটি। কান্নার শব্দে ছুটে যান স্থানীয় কয়েকজন নারী। তাঁরা নবজাতক ও মাকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু ওই রাতে মা নবজাতককে ফেলে উধাও হন।

অসহায় সেই নবজাতকের খবর পৌঁছে যায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে। চিকিৎসক ও নার্সদের যত্নের পর আইনি প্রক্রিয়া মেনে নবজাতকটি নতুন আশ্রয় পায়। গতকাল বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নবজাতকটি ইকবাল হোসেন–সাবিনা আক্তার দম্পতির কোলে তুলে দেওয়া হয়। তারা আগেই শিশুটির নাম ফাতেমা জান্নাত তুবা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নবজাতককে কোলে নিয়ে আনন্দে সেই নামে ডেকে ওঠেন তারা।

নবজাতকের অভিভাবকত্ব পেয়েছেন ইকবাল হোসেন। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। তাঁর স্ত্রী সাবিনা আক্তার গৃহিণী। দম্পতি বিরামপুর পৌর শহরের কলেজ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। তারা নামহীন ওই মেয়ে নবজাতককে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।

বিরামপুর রেলস্টেশনের দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই-তিন মাস ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী স্টেশন ও আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন। কেউ খাবার দিলে খেতেন, রাতে প্ল্যাটফর্মেই ঘুমাতেন। ৯ নভেম্বর রাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, নবজাতকটির জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মা উধাও হন। খবর পেয়ে অনেকেই নবজাতকের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখান। পরে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন পাঁচ দম্পতি। অবশেষে বিকল্প পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে নবজাতকটির নামে জমি লিখে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। শর্ত মেনে ইকবাল–সাবিনা দম্পতি ২২ শতাংশ জমি লিখে দিতে রাজি হন। দালিলিকভাবে শর্ত পূরণ হওয়ায় নবজাতকটি তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

নবজাতককে কোলে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েসন্তান নেই। নবজাতকের জন্মের খবর পেয়ে আমার দুই ছেলে তার কেয়ার নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা নিশ্চিত হতে চাই নবজাতক ভালোভাবে বড় হবে এবং উচ্চশিক্ষা পাবে।’

ইউএনও নুজহাত তাসনীম জানান, নবজাতকের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, লালন-পালনের সক্ষমতা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিকল্প পরিচর্যক হিসেবে দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নবজাতককে কোথায় বা কার কাছে দেব, তা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সে যেন ভালো পরিবারে যায়, এজন্য সবার সঙ্গে পরামর্শ করেছি। ভবিষ্যতেও তার খোঁজখবর নেবে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর।’

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন