পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা

প্রতিনিধি কক্সবাজার
রাস্তার দুই পাশে কালেমা লেখা পতাকা টাঙানো হয়েছে
রাস্তার দুই পাশে কালেমা লেখা পতাকা টাঙানো হয়েছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কক্সবাজারের টেকনাফে রাস্তার দুই পাশে কালেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। শনিবার শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় সড়কের দুই পাশে সারি সারি এসব পতাকা দেখা যায়। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।


স্থানীয়রা বলছেন, মাদ্রাসা-পড়ুয়া একদল যুবক এসে শাহপরীর দ্বীপের রাস্তা এবং জেটি ঘাটে পতাকাগুলো টাঙিয়ে দেন। পরে সেগুলোর ছবি তুলে নিজেরাই সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেন।


স্থানীয় এক যুবক তাঁর ফেসবুক আইডিতে ওইসব পতাকা লাগানোর ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো ফুটবল খেলার জার্সি কিনে টাকা নষ্ট করিনি। আমার পেছনে দেখা যাচ্ছে এত সুন্দর কলেমার পতাকা। এসব আয়োজন করেছে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন। এ দৃশ্য দেখে মনটা ভরে গেল।’


‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’ এবং ‘বিউটি অব শাহপরীর দ্বীপ’ নামে দুটি পেজে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক যুবক শরীরে কালেমা লেখা সাদা পতাকা জড়িয়ে আছেন এবং হাতে একই ধরনের পতাকা নিয়ে শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন সড়ক ও নাফ নদীর জেটিঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে তারা পতাকা প্রদর্শন করেন। তবে সকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো অনেক পতাকা কে বা কারা সরিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।


এ ঘটনায় ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’-এর কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদ হিসেবে সংগঠনের পক্ষ থেকে সবাইকে সামাজিকমাধ্যমে প্রোফাইল ছবিতে কলেমা লেখা পতাকা ব্যবহার করার আহ্বান জানান।


এ বিষয়ে শাহপরীর দ্বীপ ডাঙারপাড়া এশা’ আতুল ইসলাম ফোরকানিয়া মাদরাসার শিক্ষক আনসারুল হক বলেন, ‘আল হিদায়া ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে এসব পতাকা টাঙানো হয়েছে। আমিও এতে অংশ নিয়েছি। মূলত কলেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ কাজে যুক্ত হয়েছি। এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে জানতে পেরে আমি গিয়ে কিছু পতাকা নামিয়ে ফেলি।’


শাহপরীর দ্বীপের ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসেম বিল্লাহ তাহেরী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে কলেমা লেখা পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ সীমান্তেও আমরা এসব পতাকা উত্তোলন করেছি। ইসলামকে ভালোবেসেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।’


তিনি অভিযোগ করেন, 'কিছু পতাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা আরও পতাকা উত্তোলন করব।' তবে কেন এ ধরনের পতাকা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি তিনি।


শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘হঠাৎ করে বিভিন্ন স্থানে কলেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে—এটি নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। তাই, বিষয়টি তদারকি করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’


টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কলেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব পতাকা উত্তোলন করেছে, সে বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’


টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামকে ভালোবেসে কয়েকজন যুবক কলেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’


ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.