Padma Tribune
Home Blog Categories Authors Archive About Contact
Home / জেলা / আটক বিএনপি নেতাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নিলেন সমর্থকেরা
জেলা

আটক বিএনপি নেতাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নিলেন সমর্থকেরা

প্রতিনিধি যশোর

প্রতিনিধি যশোর

1 min · 0 words · 7
একটি মামলায় বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর অনুসারীরা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে। ছবি: সংগৃহীত
একটি মামলায় বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর অনুসারীরা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে। ছবি: সংগৃহীত
যশোরের শার্শায় একটি মামলায় আটক এক বিএনপি নেতাকে ‘মব সৃষ্টি করে’ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আটক হওয়া ওই বিএনপি নেতার নাম মোস্তফা কামাল (মিন্টু)। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তবে তাঁর দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) ছাড়াই পুলিশ জোর করে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। আর এ সময় এলাকাবাসী এসে পুলিশকে বাধা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটিতে বেড়াতে আসা এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করার মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্যামলাগাছি গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে থেকে মোস্তফা কামালকে আটক করে শার্শা থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল। এ সময় তাঁর সমর্থকেরা গ্রামের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। মাইকের ঘোষণা শুনে কয়েক শ নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে মোস্তফা কামালকে ছিনিয়ে নেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মামুন হাসান (জুয়েল) বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে নায়েক পদে কর্মরত আছেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে পূর্ববিরোধের জেরে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় মামুন হাসানের ছোট ভাই মেহেদী হাসান গত ৪ জুন শার্শা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামালকে। অন্য আসামিরা হলেন—মোস্তফার ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আবদুস সালামের ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন এবং আলাউদ্দিনের ছেলে টিটন হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ জোর করে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাঁকে মুক্ত করেন। সুনির্দিষ্ট মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশের এমন আচরণ অপেশাদার। পুলিশ কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, নিয়মিত মামলায় ওয়ারেন্ট ছাড়াই আসামিকে গ্রেপ্তার করার আইনি সুযোগ রয়েছে। পুলিশ সদস্যকে পেটানোর মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তারের সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এদিকে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্য হাসান মামুন বর্তমানে তাঁর কর্মস্থলে থাকলেও গ্রামে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসান মামুনের চাচা শফিয়ার রহমান জানান, তাঁর ভাইয়ের (মামুনের বাবা) বালুর ব্যবসা ছিল। সেখানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের উত্তোলন করা বালু জমা আছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আসামিরা সেই বালু বিক্রি করতে বা সরিয়ে নিতে বাধা দেন। তাঁরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও তাঁরা বালু বিক্রি করতে দেননি। এই কারণেই তাঁরা তাঁর ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং তার জের ধরেই মামুন হাসানকে মারধর করা হয়। এখন মামলা হওয়া ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে আসায় তাঁরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। ফলে পরিবারের সবাই এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
Share: Twitter Facebook

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.