প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসাব মেলেনি, ১১ দলীয় জোটে বাড়ছে অসন্তোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
1 min
·
3 words
·
31
গঠনের পাঁচ মাসের মধ্যেই ১১ দলীয় জোটে যেন ভাঙনের সুর বেজে উঠছে। জোটের শরিক দলগুলোর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব না মেলার পাশাপাশি আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বও প্রকাশ পাচ্ছে। বিশেষ করে, সংরক্ষিত নারী আসনে সব দলের মতামত না নেওয়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ প্রশ্নে মতপার্থক্য, এনসিপিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা-কর্মীদের যোগদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিল নিয়ে এনসিপির অবস্থান এবং একক কর্তৃত্বের অভিযোগ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে জোট ছাড়ার আলোচনা চলছে। আরও কয়েকটি দল জোট নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছে।
শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, জোটের দলগুলোকে এখনো পর্যন্ত ‘নামকাওয়াস্তে’ একসঙ্গে রেখেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি। সংসদে বিরোধী-দলীয় অবস্থান আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এই জোটে কার্যকর সমন্বয় নেই। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতা না হলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে মনে করছেন নেতারা।
জোটের শরিক এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। অনেক প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। বিশেষ করে, সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদে জামায়াতের যে ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা প্রত্যাশা অনুযায়ী পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে তাদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।’ তারপরও সংসদে ও রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্য এই জোটের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সারজিস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। অন্যদিকে জামায়াত দক্ষিণে মেয়র পদে শিবির নেতা সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার কথা বলছে।
এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত যদি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ছাড় না দেয়, তাহলে জোট নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি। এ বিষয়ে দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা দক্ষিণে ছাড় না পেলে জোটের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এনসিপি জোট ছেড়ে বের হয়ে যেতেও পারে।
তবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর মতে, ১১ দলীয় জোট মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য ছিল। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ভিত্তিতে জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে এটি শুধু একটি ‘নির্বাচনী জোট’। নির্বাচনের পর এই জোট কার্যকর থাকার কথাও ছিল না। তবে বর্তমানে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জোটটি কোনোভাবে টিকে আছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে মঞ্জু বলেন, কিছু টানাপোড়েন থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ জোটের কিছু দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে, আবার কিছু দল সংসদের বাইরে রয়েছে। তা ছাড়া জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি সংগঠিত নয়। ফলে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়েও জোটের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন।
সূত্রমতে, খেলাফত আন্দোলনের ভেতরে জোট ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ১১ দলীয় জোট ছাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, ‘জোটের কোনো প্রোগ্রামে আপাতত আমরা যাচ্ছি না। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আমরা নিইনি। চলতি মাসের ১০ তারিখে আমাদের মজলিসে আমেলার মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’
যদিও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জোট ত্যাগের আশঙ্কার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আছে। তাঁরা বলেছেন, আমরা জোট থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দিইনি।’
জোটে জামায়াতের একক কর্তৃত্বের অভিযোগের বিষয়ে এই নেতা বলেন, ‘এই অভিযোগ সঠিক না। কেউ যদি এমন অজুহাত দাঁড় করায় সেটা ভিন্ন। আমাদের মধ্যে এরকম কিছু নেই। আমরা সবাইকে সমান দৃষ্টিতে সমান গুরুত্ব-মর্যাদা দিই।’
দলীয় সূত্র বলছে, জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে জোট ছাড়ার আলোচনা চলছে। আরও কয়েকটি দল জোট নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছে।
শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, জোটের দলগুলোকে এখনো পর্যন্ত ‘নামকাওয়াস্তে’ একসঙ্গে রেখেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি। সংসদে বিরোধী-দলীয় অবস্থান আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে এই জোটে কার্যকর সমন্বয় নেই। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতা না হলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে মনে করছেন নেতারা।
জোটের শরিক এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। অনেক প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। বিশেষ করে, সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদে জামায়াতের যে ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা প্রত্যাশা অনুযায়ী পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে তাদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।’ তারপরও সংসদে ও রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্য এই জোটের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সারজিস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। অন্যদিকে জামায়াত দক্ষিণে মেয়র পদে শিবির নেতা সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার কথা বলছে।
এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত যদি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ছাড় না দেয়, তাহলে জোট নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি। এ বিষয়ে দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা দক্ষিণে ছাড় না পেলে জোটের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এনসিপি জোট ছেড়ে বের হয়ে যেতেও পারে।
তবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর মতে, ১১ দলীয় জোট মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য ছিল। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির ভিত্তিতে জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে এটি শুধু একটি ‘নির্বাচনী জোট’। নির্বাচনের পর এই জোট কার্যকর থাকার কথাও ছিল না। তবে বর্তমানে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জোটটি কোনোভাবে টিকে আছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে মঞ্জু বলেন, কিছু টানাপোড়েন থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ জোটের কিছু দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে, আবার কিছু দল সংসদের বাইরে রয়েছে। তা ছাড়া জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি সংগঠিত নয়। ফলে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়েও জোটের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন।
সূত্রমতে, খেলাফত আন্দোলনের ভেতরে জোট ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ১১ দলীয় জোট ছাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, ‘জোটের কোনো প্রোগ্রামে আপাতত আমরা যাচ্ছি না। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আমরা নিইনি। চলতি মাসের ১০ তারিখে আমাদের মজলিসে আমেলার মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’
যদিও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জোট ত্যাগের আশঙ্কার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আছে। তাঁরা বলেছেন, আমরা জোট থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দিইনি।’
জোটে জামায়াতের একক কর্তৃত্বের অভিযোগের বিষয়ে এই নেতা বলেন, ‘এই অভিযোগ সঠিক না। কেউ যদি এমন অজুহাত দাঁড় করায় সেটা ভিন্ন। আমাদের মধ্যে এরকম কিছু নেই। আমরা সবাইকে সমান দৃষ্টিতে সমান গুরুত্ব-মর্যাদা দিই।’
How did this article make you feel?
Related Articles
বাংলাদেশ
নোয়াখালীতে বিএনপি–আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে আগুন, ভাঙচুর
Jun 06, 2026 · 1 min
1 shared tag
রাজনীতি
মেট্রোরেলের নিচে, আবাসিক এলাকায় গরুর হাট আ.লীগের সময়েও বসেনি: আসিফ মাহমুদ
Jun 06, 2026 · 1 min
রাজনীতি
সামাজিক মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের নিয়ে অপপ্রচার পরিকল্পিত: মির্জা ফখরুল
Jun 05, 2026 · 1 min
বাংলাদেশ
মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
Jun 08, 2026 · 1 min
0 Comments
No comments yet. Be the first to share your thoughts!