[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শরীয়তপুরে কৃষকদের ডিজেল দিতে জেলা প্রশাসনের নতুন অ্যাপ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার প্লাবন কুমার সাহা কৃষকদের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ করার অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেন। শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

শরীয়তপুরের কৃষকদের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন একটি অ্যাপ চালু করেছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশন ও সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। শনিবার বিকেলে অ্যাপটি চালু করা হয়।

রোববার থেকে কৃষি বিভাগ ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা অ্যাপের মাধ্যমে শুধু নিবন্ধিত কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি করবেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ জ্বালানি তেলের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ও অবৈধ মজুত রোধে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অ্যাপ চালু করা হয়। ওই অ্যাপ ব্যবহার করে যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার কৃষকদের ডিজেল সরবরাহের জন্য আলাদা আরেকটি অ্যাপ চালু করা হলো। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার প্লাবন কুমার সাহা অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেন।

শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ফিলিং স্টেশন ও সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কৃষি বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। কৃষকদের জন্য চালু করা অ্যাপে কৃষি বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩৮২ জন কৃষকের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। একজন কৃষক ২৪ ঘণ্টায় সাত লিটার ডিজেল নিতে পারবেন।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, শরীয়তপুরে চলতি বোরো মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। ৮২ হাজার কৃষকের আবাদ করা এসব জমিতে ২ হাজার ৫০০টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। শরীয়তপুর জেলায় সাতটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলোতে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রল ও ১২ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রও রয়েছে। পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরার জন্য জেলায় ১২ হাজার জেলেনৌকা রয়েছে। এই নৌকাগুলোতে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন জানায়, তাদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ থেকে দুটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। যানবাহনের জন্য তৈরি অ্যাপটি ব্যবহার করে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা গাড়ির নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করে জ্বালানি তেল দিচ্ছেন। একটি যান ২৪ ঘণ্টায় জেলার যেকোনো স্থান থেকে কেবল একবারই তেল সংগ্রহ করতে পারবে। একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে তেল নেওয়ার পর অন্য কেন্দ্রে গেলে অ্যাপের মাধ্যমে তা ধরা পড়বে। এতে কেউ প্রয়োজনের বেশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন না। তেল বিক্রির সব তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের আইসিটি বিভাগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। ফলে প্রতিদিন কতটি যানবাহনে কত লিটার তেল দেওয়া হয়েছে, তা সহজেই দেখা যাবে।

শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজারের হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল নেওয়ার জন্য কয়েক শ কৃষক অপেক্ষা করছেন। তাঁরা সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন। কিন্তু ডিজেল না থাকায় প্রথমে তাঁদের তেল দেওয়া যাচ্ছিল না। পরে তেল আসার পর বিকেল চারটা থেকে কৃষক ও যানবাহনচালকদের অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়। সে সময় দেখা যায়, অনেক কৃষক জেলা প্রশাসনের ওই অ্যাপে নিবন্ধিত নন। তখন উপস্থিত সব কৃষককে তেল দেওয়ার জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। রোববার থেকে ওই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের নিবন্ধন যাচাই করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজেল নিতে হলে কৃষককে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। 

জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনে ভিড় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন জানান, ‘ডিপো থেকে প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমরা পাচ্ছি না। এ কারণে কৃষকদের প্রতিদিন ডিজেল দেওয়া যাচ্ছিল না। অ্যাপ চালুর পর কৃষক নিবন্ধিত কি না এবং যানবাহন অন্য কোথাও থেকে তেল নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়েই জ্বালানি তেল দিচ্ছি।’

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, ‘আমরা প্রয়োজন বিবেচনা করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে চাই। এছাড়া কোনো অসাধু চক্র যাতে জ্বালানি তেল মজুত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে অ্যাপ দুটি চালু করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রতিদিনের তথ্য আসছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন