[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ইটিসি চালু, মিলছে ডিভাইসও

ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ডিভাইসটি বিক্রিও শুরু হয়েছে। একেকটি আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রকাশঃ
অ+ অ-
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ১ এপ্রিল থেকে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই ডিভাইসের ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ সুবিধাসহ (অফার) এটি বিক্রিও শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে এক্সপ্রেসওয়েটি চালুর সময় থেকেই ইটিসি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এত দিন তা কার্যকর করেনি ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (এফডিইই) কোম্পানি লিমিটেড।

ব্যস্ত সময়ে টোল প্লাজায় ভিড় কমাতে দুই বছর আগে সরকার এফডিইই কোম্পানিকে চিঠি দিলেও অর্থসংকটের কারণে তারা এটি স্থাপন করতে পারছিল না। অবশেষে সীমিত পরিসরে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন থেকে উত্তরা, কুড়িল, তেজগাঁও, মহাখালী ও বনানী টোল প্লাজার যেকোনো একটি নির্ধারিত গেট দিয়ে ইটিসি ডিভাইসযুক্ত গাড়িগুলো সরাসরি চলে যেতে পারবে। এতে টোল দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না।

এফডিইই কোম্পানি লিমিটেডের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন (অব.) হাসিব হাসান খান জানান, ১ এপ্রিল থেকে ইটিসি চালু করা হয়েছে। যেসব গাড়িতে এই ডিভাইস থাকবে এবং তাতে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকবে, তাদের টোলবুথে থামতে হবে না; যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেবে। আপাতত প্রতিটি টোল প্লাজার একটি গেটে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

যেসব গাড়িতে ইটিসি ডিভাইস ব্যবহার করা হবে, সেসব গাড়ি ব্যবহারকারীদের বুথে টোল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

— ক্যাপ্টেন (অব.) হাসিব হাসান খান, ব্যবস্থাপক, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগ, এফডিইই কোম্পানি লিমিটেড

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলের জন্য যানবাহনের ধরন অনুযায়ী টোলের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, কার, ট্যাক্সি, জিপ, এসইউভি, ১৬ সিটের কম মাইক্রোবাস এবং ৩ টনের কম হালকা ট্রাকের জন্য টোল ৮০ টাকা। এছাড়া ১৬ বা তার বেশি আসনের বাসের জন্য ১৬০ টাকা, ৬ চাকার মাঝারি ট্রাকের জন্য ৩২০ টাকা এবং ৬ চাকার বেশি ট্রাকের জন্য টোল ৪০০ টাকা।

ইটিসি ডিভাইস প্রসঙ্গে হাসিব হাসান খান জানান, কুড়িলে কোম্পানির কার্যালয়ের নিচতলায় এই ডিভাইস বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি ডিভাইসের দাম ২,৫০০ টাকা। তবে কোনো গ্রাহক একবারে ৫,০০০ টাকা রিফিল করলে ডিভাইসটি বিনামূল্যে (ফ্রি) পাবেন। ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজনমতো টোলের অর্থ রিফিল করে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) এই প্রকল্পের নির্বাহক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। শুরুতে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্টের ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকলেও অভ্যন্তরীণ মালিকানা দ্বন্দ্ব ও ঋণ জটিলতার কারণে প্রকল্পে অর্থসংকট তৈরি হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইটিসি স্থাপন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

কর্মব্যস্ত সময়ে তেজগাঁও ও বিমানবন্দর এলাকায় টোল প্লাজার দীর্ঘ জট নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইটিসি স্থাপনের তাগিদ দেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের পরিচালক এ এইচ এম সাখাওয়াত আখতার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শুরু থেকে ইটিসি চালুর কথা থাকলেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তা করেনি। ফলে পিক আওয়ারে দীর্ঘ লাইনের কারণে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। চিঠিতে এপ্রিলের মধ্যে এই পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতায় এক বছরের বেশি সময় প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের রায়ে মালিকানায় বড় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে শ্যানডংয়ের ৮০ শতাংশ, সিনোহাইড্রোর ১৯ শতাংশ এবং ইতালিয়ান থাইয়ের মাত্র ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশের কাওলা থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন