[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

অকটেনের আদ্যোপান্ত: কী, কোথা থেকে আসে ও সংকটের চিত্র

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ঢাকার আসাদগেটের ফিলিং স্টেশনে অকটেন নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেলচালক | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এক মাস ধরে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেল। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনার দীর্ঘ লাইনের ছবি ও খবর প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে আসছে। এর মধ্যেই অনেক স্টেশনে মাঝেমধ্যেই নোটিশ ঝুলছে—‘অকটেন নেই’, ‘পেট্রল নেই’ বা ‘ডিজেল নেই’। যাঁরা গাড়ির মালিক নন, তাঁদেরও এখন অকটেন ও পেট্রলের খবর রাখতে হচ্ছে; কারণ যানবাহনে তো সবাইকেই চড়তে হয়।

নাম আলাদা হলেও পেট্রল ও অকটেন মূলত একই ধরনের জ্বালানি তেল। উচ্চমানের পেট্রলকেই অকটেন বলা হয়। জ্বালানি তেলের মান মূলত বোঝা যায় এর ‘অকটেন রেটিং’ দেখে। উচ্চমানের মোটর গ্যাসোলিনে এই রেটিং বেশি থাকে, যা আমাদের কাছে অকটেন নামে পরিচিত। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে সাধারণত জ্বালানি হিসেবে অকটেন ও পেট্রল ব্যবহার করা হয়।

জ্বালানি তেলের অকটেন রেটিং যত বেশি হয়, ইঞ্জিন তত বেশি চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। এ কারণে পেট্রলচালিত গাড়িতেও অনেকে অকটেন ব্যবহার করেন, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে দৈনিক গড় বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩৭ টন। তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই চাহিদাই বাড়ে-কমে। গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন বিক্রি হলেও এবারের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ টনে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দৈনিক গড় বিক্রি বেড়েছে ২৯ টন।

দেশে বছরে সরবরাহ করা মোট জ্বালানি তেলের ৬ শতাংশ হলো অকটেন। এই চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে চাহিদার ৫০ শতাংশ অকটেন দেশেই উৎপাদন করা হয়েছিল, বাকি ৫০ শতাংশ আমদানি করতে হয়েছে।

দেশে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া এবং আমদানি করা কনডেনসেট শোধন করে অকটেন তৈরি করা হয়। সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার একসময় এটি তৈরি করলেও এখন সেখান থেকে আর কোনো অকটেন পাওয়া যায় না। তবে দেশের চারটি বেসরকারি শোধনাগার থেকে নিয়মিত অকটেন কেনে বিপিসি।

এই চারটি শোধনাগার হলো—চট্টগ্রামের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড ও পারটেক্স পেট্রো লিমিটেড, নরসিংদীর অ্যাকোয়া রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাগেরহাটের পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড। এছাড়া সরকারি গ্যাস কোম্পানিগুলোর নিজস্ব শোধন প্ল্যান্ট থেকেও বিপিসি অকটেন পেয়ে থাকে।

সাধারণত আমদানি করা অকটেনের জাহাজ ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর পর আসে। সেই হিসাবে গত মার্চ মাসে অকটেন নিয়ে কোনো জাহাজ আসার কথা ছিল না। তবে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি এক জাহাজ অকটেন কেনার সিদ্ধান্ত হলেও তা মার্চে এসে পৌঁছায়নি। এর মধ্যে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় মজুতও কমে এসেছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৯ হাজার ২১ টন অকটেন মজুত আছে। দৈনিক বিক্রির হিসাব ধরলে এই মজুত দিয়ে ৭ দিন চলার কথা। আগামী ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজের আসার কথা রয়েছে। এছাড়া মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আরও ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে আরেকটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আমদানির পাশাপাশি দেশের বেসরকারি শোধনাগারগুলো থেকে এই মাসে ৩০ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এপ্রিলে মোট ৮০ হাজার টন অকটেন যুক্ত হচ্ছে, যেখানে এই মাসে চাহিদা রয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার টন। তাই আপাতত অকটেনের ঘাটতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

বিপিসির হিসাবে সংকট না থাকলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি কমছে না, যা স্বাভাবিক সময়ে দেখা যায় না।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন ছাড়াই বাড়তি তেল কেনার হিড়িক পড়ে যায়। আবার একশ্রেণির মানুষ সুযোগ বুঝে তেল কিনে মজুত করতে শুরু করে।

গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার অকটেন উদ্ধার করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আতঙ্ক থেকে বাড়তি কেনাকাটা এখনো থামেনি বলেই ফিলিং স্টেশনগুলো অতিরিক্ত চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, এপ্রিলে সরবরাহ বেড়ে গেলে ভিড় কমে আসতে পারে। এছাড়া অনেকেই এই মাসে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করেছিলেন, তবে সরকার দাম বাড়ায়নি। এতে তেল মজুত করার প্রবণতাও কমে আসতে পারে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন