র্যাব নিয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে: মহাপরিচালক
![]() |
| মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র্যাবের নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে | ছবি: র্যাবের কাছ থেকে পাওয়া |
‘র্যাব বিলুপ্তি বা এই বাহিনী সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব র্যাবের ওপর পড়ে না। সরকার এসব বিষয় বিবেচনা করবে। আমাদের কাজ হচ্ছে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া।’
র্যাবের বিলুপ্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাহিনীর মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ এ কথা বলেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব সংবাদ কেন্দ্রে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নতুন মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলছি, সে ক্ষেত্রে আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র্যাবকে জনগণের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করা। তাই র্যাব সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।’
বাহিনীর নাম পরিবর্তন, সংস্কার ও পুনর্গঠন সরকারের বিবেচনার বিষয় বলে মনে করেন র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করে যেতে চাই। আর বাহিনীর ভেতর কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই, কেউ ছাড় পাচ্ছেও না। আশা করি, দিন শেষে আমরা একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারব এবং র্যাবের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে, সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যাবে।’
র্যাব গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত কোন সময়ে কী কী অপরাধের কারণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় এল, তা বিশ্লেষণ করা দরকার বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন যে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি বা ভুল হয়তো ছিল বলেই এমন একটি বিষয় সামনে এসেছে। আমরা যদি সেই জায়গাগুলো সংশোধন করতে পারি, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আর থাকবে না।’
সম্প্রতি র্যাবের বিভিন্ন সাফল্য এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় র্যাবের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানের তথ্য এবং বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র্যাব মহাপরিচালক।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে র্যাবের ক্রসফায়ারের মামলার নথি পর্যালোচনার কথা বলেছেন। তদন্ত শেষে প্রমাণ পেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে র্যাব সরকারকে সহায়তা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আছে এবং যতটুকু তথ্য থাকবে, তার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। যে তথ্য আমার কাছে নেই বা থাকবে না, তা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। সে ক্ষেত্রে হয়তো আমরা অপারগতা প্রকাশ করতে পারি। তবে সাধ্যের মধ্যে থাকা সব তথ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব।’
সরকারের পক্ষ থেকে এমন সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—জানতে চাইলে আহসান হাবীব বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যোগাযোগ করেছে বলে তাঁর জানা নেই।
র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব বলেন, বিগত দেড় বছরে, বিশেষ করে আগের সরকারের সময়ে র্যাবের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বাহিনীর অপকর্ম বা নেতিবাচক কাজের ইতিহাস খুব বেশি নেই। এতে প্রমাণিত হয় যে র্যাবকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে এটি সঠিক পথেই চলতে পারে। বর্তমান সরকার র্যাবকে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, র্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও তাঁরা পেয়েছেন।
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের একটি সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে। এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র্যাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। আমি চাই র্যাব পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যতে র্যাব অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।’
দেশে জঙ্গিবাদ আছে কি না এবং থাকলে তা নির্মূলে র্যাবের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ আছে কি না, সেই উত্তর আমি দিতে চাই না। উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ যা–ই থাকুক না কেন, আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের কাজ চলমান আছে। ইনশাআল্লাহ, সব ধরনের উগ্রবাদ আমরা নির্মূল করতে পারব।’
সুন্দরবনের জলদস্যু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান র্যাব মহাপরিচালক।

Comments
Comments